দুই লাখ টাকা বন্ডে খালেদা জিয়ার জামিন

0

প্রেসবিডি,ঢাকা:জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারের কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আকতারুজ্জামানের আদালত প্রতি মামলায় এক লাখ টাকা করে দুই লাখ টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত দুটি শর্তে খালেদা জিয়াকে জামিন দেন। প্রথমত দুই মামলায় এক লাখ টাকা করে বন্ড এবং দুজন জামিনদার হতে হবে; দ্বিতীয়ত চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, চিকিৎসার জন্য গত তিন মাস ধরে লন্ডনে অবস্থান করছিলেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যেই গত ১২ অক্টোবর দুর্নীতির দুই মামলায় জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।

ওই দিন অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির কার্যক্রম শেষ করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ঠিক করে দেন আদালদ। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি জেরার পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির এক সপ্তাহের মাথায় বুধবার বিকালে দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া। এর পরদিন বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন বিএনপি নেত্রী।

এদিন বেলা সোয়া ১১টার দিকে আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়া। এরপর সাড়ে ১১টার দিকে তিনি জামিন আবেদন করেন।

এর আগে সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সঙ্গে ছিলেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ছাড়াও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লাহ বুলু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

মামলায় বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়।

অপরদিকে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জিয়া অরফানেজ মামলাটি করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলাটি করা হয়।

২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।

দুই মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here