চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত দুই শতাধিক

0

অনলাইন ডেস্ক,প্রেসবিডি২৪.কম :: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শীতলপুর এলাকায় অজ্ঞাত রোগে দুই শতাধিক লোক আক্রান্ত হয়েছে।

দুই সপ্তাহ ধরে এ রোগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আছে এলাকার মানুষ। খবর পেয়ে প্রশাসন জেলেপাড়া এলাকায় অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প চালু করেছে।

অসুস্থ মানুষদের নগরীর কয়েকটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন বলছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি চিকনগুনিয়া।

সীতাকুণ্ডের শীতলপুর সাগরপাড়ের জেলেপাড়া এলাকায় বাস করে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। গত দুই সপ্তাহ ধরে এ এলাকার নারী পুরুষ ও শিশুরা ভুগছে নানা রোগে। এদের মধ্যে বেশির ভাগ লোকের জ্বর, শরীর ব্যাথা,বমি, কাশিসহ শরীরের দেখা দিয়েছে  নানা উপসর্গ।

বুধবার এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক শুরু হয় এলাকাজুড়ে। গত কয়েকদিনে অর্ধশত লোককে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই পরিবারের সব সদস্য এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী কারণে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে তা কেউ বলতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল চন্দ্র দাশ জানান, তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যই গত ১৫ দিন ধরে এ রোগে আক্রান্ত। গতকাল মঙ্গলবার তিনি নিজেই প্রশাসনকে খবর দেওয়ার পর তা জানাজানি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রাধা রানী জানান, তাঁরা স্বামী ও স্ত্রী দুজন আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁদের মেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁদের দেখতে এসে সন্তানসহ আক্রান্ত হয়েছেন। এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর বিচ্ছিন্নভাবে লোকজন স্থানীয় ওষুধের দোকানে গিয়ে ওষুধ ও চিকিৎসা নেয়। কিন্তু দিনের পর দিন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পর আতঙ্ক দেখা দেয়।

প্রশাসন বলছে, খবর পেয়ে জেলেপাড়া এলাকায় চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বেশ কিছু মানুষ। আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে চিকনগুনিয়া ধারণা হলেও পরীক্ষার পর প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসবে বলে জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তা অলিউর রহমান বলেন, ‘প্রতিটি রোগী পাঁচ-ছয়দিন ধরে জ্বরে ভুগছে। এসব রোগীর শরীরে লাল রেশ লক্ষণীয়। ব্যাথা বেদনা বেশি। তিনটি লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে চিকনগুনিয়া।এটা ধারণা করা হচ্ছে। তবে সাতদিন পর রোগের প্রকৃত চিত্র ধরা যাবে।’

জেলা সিভিল সার্জন আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘এলাকাটি ঘনবসতি এলাকা। চিকনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত বলে সন্দেহ জনকভাবে মনে হচ্ছে। বুধবারসহ দুদিনে ৭৫ জন রোগীকে দেখেছি। আমরা প্রতি পরিবারকে মশারি দেওয়ার ব্যবস্থা করব। এডিশ মশা নিয়ে সার্ভে করা হবে। চিকিৎসাটিম গঠন করা হয়েছে। আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here