বন্ধুত্ব হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: প্রধানমন্ত্রী

0
ফাইল ছবি

বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও আচরণে বাংলাদেশ সমতা ও সমমর্যাদার নীতিতে থাকবে বলে বিভিন্ন দেশে কর্মরত কূটনীতিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। বিজয় অর্জন করেছি, আমরা মাথা উঁচু করে চলব।’

রবিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রদূত সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক মিশনে কর্মরতারা এই সম্মেলনে যোগ দেন।

দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তার সরকারের আমলের সাফল্য, নতুন নতুন মিশন স্থাপনসহ নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য ও জনশক্তির জন্য নতুন নতুন বাজার সন্ধানে কূটনীতিকদের নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছে। এই বিজয়ী জাতি কখনও কারও কাছে মাথা নত করতে পারে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বন্ধুত্ব হবে সমতার ভিত্তিতে। আমরা সমমর্যাদা নিয়ে চলব, কারো কাছে করুণা ভিক্ষা নিয়ে চলবো না।’

‘আপনারা বিদেশে আমাদের রাষ্ট্রদূত। আপনারাই বিদেশে একটা করে বাংলাদেশ। আপনারা এভাবে কথা বলবেন, যেন সমমর্যাদা থাকে। আমরা এভাবেই চলতে চাই।’

১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল অবধি বিশ্বে বাংলাদেশকে সবাই করুণার চোখে দেখতো বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘মনে হতো আমরা তাদের কাছে ভিক্ষা চাইতে গেছি। আমাদের বাজেট বিদেশি সাহায্য ছাড়া চলত না, আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তাদেরকে ছাড়া চলত না।

‘এসব দেখে আমার কষ্ট হতো। কারণ ছোটবেলায় দেখেছি আবার বাবা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন। আমরা বিজয়ী জাতি, কীভাবে আমরা এত ছোট হয়ে থাকব?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মনে মনে কষ্ট হতো, ভাবতাম, যদি কখনও ক্ষমতায় যেতে পারি কী কী করণীয় থাকবে আমাদের, কীভাবে দেশের মর্যাদা আমরা ফেরাব।’

৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আপনারা যারা বিদেশে আছেন, আপনারা উপলব্ধি করেন, বাংলাদেশকে কেউ করুণার চোখে দেখে না, বাংলাদেশকে এখন হিসাবে নেয় তারা।’

প্রতিবেশী দেশের সাথে সমস্যা সমাধানে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার নীতির কথাও জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ ডাকার পক্ষপাতি নন তিনি। বলেন, গঙ্গার পানিবণ্টন আর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি করার পর ভারত থেকে শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তৃতীয় পক্ষের কোনো সহযোগিতা নেয়নি।

প্রতিবেশী দেশের সমস্যা থাকতেই পারে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এগুলোর সমাধান করা দরকার। এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের কথা তুলে ধরেন তিনি। এই সমঝোতা অনুযায়ী মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলেও আশাবাদী শেখ হাসিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here