তিস্তায় ব্যাপক ভাঙন, ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন

0

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে তিস্তার তীব্র পানির স্রোতে নদী তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন চলছে। গত দুই সপ্তাহে তিস্তার ভাঙনে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি এবং সহস্রাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরও শতাধিক ঘরবাড়ি ও প্রচুর আবাদি জমি ভাঙনের মুখে রয়েছে। অসময়ে তিস্তার এ ভাঙনে নদী তীরবর্তী এলাকাসহ সংশ্লিষ্ট পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

নদী ভাঙনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, হরিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ি, মাদারিপাড়া, কাশিমবাজার, উত্তর শ্রীপুর, পুঁটিমারী, লালচামার গ্রামে দুই সপ্তাহে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো গৃহহীন হয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়ে এখন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। এলাকাবাসি বলেন, তিস্তা ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীটি বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য পানি বৃদ্ধি পেলেই নদী উপচে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয় এবং তখনই ভাঙনের মুখে পড়ে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো।

হরিপুর ইউনিয়নের মাদারিপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া বলেন, তিস্তার ভাঙনে চরাঞ্চলবাসি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ সময় তীব্র আকারে নদী ভাঙার কথা নয়। অথচ দীর্ঘদিন থেকে দফায় দফায় নদী ভাঙন চলছে। যার কারণে হরিপুর ইউনিয়নের প্রায় সহস্রাধিক একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চরের মানুষ তরিতরকারির আবাদ করে ৬ মাস সংসার চালান কিন্তু নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জানান, নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খনন করা ছাড়া নদী ভাঙন রোধ করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। নদী ভাঙন ঠেকাতে হলে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী পরিচালক মোখলেছুর রহমান জানান, নদী ভাঙন রোধ একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তবে নদী ভাঙন রোধে সরকারের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। শীঘ্রই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here