
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। তার ভাষায়, সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যাতে মানুষকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে না হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের পরিবর্তনে জমির মালিকানা জটিল হয়েছে। আগে একটি জমির একজন মালিক থাকলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে বহু মালিক ও শরিকানা তৈরি হয়েছে। ফলে ভূমি রেকর্ড সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও বহুগুণ বেড়েছে।
তিনি বলেন, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজসহ ভূমি সংক্রান্ত নানা শব্দ ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাধারণ মানুষ পরিচিত। আগে এসব কাজের জন্য ভূমি অফিসে যেতে হলেও এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা সহজ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনলাইন সেবা চালুর ফলে জমিজমা সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও হ্রাস পাবে।
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমির পরিমাণ কমছে, ফলে জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা ও জটিলতাও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পারিবারিক শান্তি নষ্ট করছে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও বাধা সৃষ্টি করছে।
এ অবস্থায় ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা সময়ের অপরিহার্য দাবি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড তৈরির কাজ করছে এবং ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবা ধাপে ধাপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে ৪৭ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার বড় অংশই জমি সংক্রান্ত। তাই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ও গ্রাম আদালতের মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত বিরোধ সমাধানে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন, যাতে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি শুধু সম্পদ নয়—এটি মানুষের নিরাপত্তা, জীবিকা ও ভবিষ্যতের ভিত্তি। তাই এই খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে জনগণ ই-নামজারি, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা সরাসরি নিতে পারবে।

