
পদত্যাগের বিষয়টি রাষ্ট্রপতি নিজেও স্বীকার করেছেন। একটি শীর্ষ অনলাইন গণমাধ্যমে একজন সাংবাদিক হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের ব্যাপারে বলেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’ পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বলে দিছি, বুঝে নেন।’
পদত্যাগপত্রের চিঠিতে চিঠিতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের পতনের পর সাংবিধানিক সংকট এড়াতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনে ভূমিকা রাখেন।
বর্তমানে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ (Autonomic Neuropathy) নামক স্নায়ুরোগে আক্রান্ত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অব্যাহতি নেন।
মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন- এমন খবর নিয়ে গত দুই দিন ধরেই আলোচনা চলছে দেশের গণমাধ্যমে। এর মধ্যেই থাইল্যান্ডে সফর সংক্ষিপ্ত করে দুদিন আগে আজ শুক্রবার সকালে দেশে ফিরেছেন সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি চিকিৎসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে ওই পদে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আপাতত স্পিকার হাফিজ উদ্দিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গেছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। মেয়াদের আরও প্রায় এক বছর নয় মাস বাকি থাকতেই তিনি পদত্যাগ করলেন।

আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠভাজন হিসেবে পরিচিত সাবেক জেলা ও দায়রা জজ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তখন বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে বিএনপি বরাবরই রাষ্ট্রপতিকে সরানোর পক্ষে ছিল না। ফলে শেষ পর্যন্ত টিকে যান মো. সাহাবুদ্দিন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার ঘটন করলে নতুন সরকারকে শপথ পড়ান সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তখন থেকেই কবে তাকে সরানোর হবে সেই প্রহর গোনা হচ্ছিল। অবশেষে সরকারের পাঁচ মাসের মাথায় তিনি বঙ্গভবন ছাড়ছেন।
