ফারুক হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল আলমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও খাগড়াছড়ি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো: জাহাঙ্গীর আলম ও স্থানীয় শাফায়েত উল্ল্যাহ সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ পত্রে, শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র চলে যাওয়া প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম, তাঁর স্ত্রী ও তাঁর ছোট বোনের মোবাইল নাম্বারে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের থেকে নিয়ম বহির্ভূত প্রসংশা পত্র বিক্রি বাবদ ৪০০/৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ওয়াইফাই রাউডার নিজ বাসায় ব্যবহার, বিদ্যালয়ের জেনারেটর যার বাজার মূল্য ২৭,৫০০/= টাকা প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যান, প্রতিবেদন লেখা অবধি জেনারেটর বিদ্যালয়ে ফেরত দেননি। বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কার করনের জন্য একলাস চেয়ারম্যান নামের এক ঠিকাদার ৯৫ হাজার টাকা অনুদান প্রধান শিক্ষক রবিউল আলমের হাতে তুলে দেন। এবং বিদ্যালয় মাঠের মাটি রুহুল আমিন নামের এক ঠিকাদারের কাছে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি সহ আরো একাধিক অনিয়ম দূর্নীতির কথা তুলে ধরেন অভিযোগকারীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক জানান, বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র চলে যাওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম নিজের নাম্বার ও তাঁর ছোট বোনের মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন। এবং প্রধান শিক্ষক রবিউল আলমের ছোট ছেলে রিয়াসাত তিহামি মাটিরাঙ্গা বনশ্রী বিদ্যানিকেতন এর শিক্ষার্থী হওয়া সর্তেও অত্র স্কুলের শিক্ষার্থী দেখিয়ে তাঁর স্ত্রীর মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ সহ অজস্র অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক রবিউল আলমের বিরুদ্ধে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ঝর্ণা ত্রিপুরা জানান, শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে শুনেছি এবং ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক কার্যালয় থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি এখন উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে রয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে মর্মে চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে বিভাগীয় উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এর স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ জারী করা হয়েছে।
(যার স্মারক নং-৩৮.২০.০০০০.০০০.২৭. ০৫৫.২৫- ২৫-৫৩৭) এই নোটিশে, প্রধান শিক্ষক রবিউল আলমের ছোট ছেলে মাটিরাঙ্গা কিন্ডারগার্টেন (বনশ্রী বিদ্যানিকেতন)এর শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তি দেখিয়ে তাঁর স্ত্রীর মোবাইল নাম্বার এর মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।
যেহেতু বর্ণিত অভিযোগটি 'সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮' এর ৩/( খ) ও (ঘ) ধারা মোতাবেক অসদাচরণ ও দুর্নীতির সামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ; সেহেতু 'সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮' এর ৩/(খ) ও (ঘ) ধারা অনুযায়ী আপনাকে 'অসদাচরণ' ও 'দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলো এবং উক্ত অপরাধের জন্য একই বিধিমালার ৪/৩ (ঘ) ধারা মোতাবেক কেন আপনাকে সরকারি চাকরী হতে বরখাস্ত (Dismissal From Service) করা হবে না বা একই বিধিমালার আলোকে অন্য কোন উপযুক্ত শাস্তি প্রধান করা হবে না তার সন্তোষজনক জবাব অভিযোগনামা প্রাপ্তির ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারীর বরাবরে দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
আপনি ব্যক্তিগত শুনানী প্রদানে ইচ্ছুক কিনা আপনার লিখিত জবাবে তাও উল্লেখ করতে বলা হলো।
অভিযোগ সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল আলমের কাছ থেকে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর কল কেটে দিয়ে তিনি আর কল রিসিভ করেননি।