
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ–৩ ব্লকের খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হিফজখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যায়। দুপুরে হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে মাদ্রাসার ওপর পড়ে। এতে সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মাটিচাপা পড়েন। দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানে যোগ দেয়। আহতদের উদ্ধার করে ক্যাম্পের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল আহমদ বলেন, প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসে মাদ্রাসাটি চাপা পড়ে। উদ্ধারকাজে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা একযোগে কাজ করছেন।
এ পর্যন্ত যাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা হলেন— উখিয়ার ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আব্দু শুক্কুরের দুই মেয়ে উম্মে নেসাত (১৩) ও উম্মে সালমা (১১), ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হাসিম উল্লাহর মেয়ে কাউসনা (১১) এবং মাদ্রাসার শিক্ষক শামসুল আলম। বাকি নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি রশিদ উল্লাহ বলেন, একই পরিবারের দুই শিশু নিহত হয়েছে এবং আরেকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসে মাদ্রাসাটি চাপা পড়ে। এটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। তাই সেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মানুষ অবস্থান করছিলেন। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার আটজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনায় আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় কক্সবাজারে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগে সোমবারও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আটজন এবং কক্সবাজার শহর ও পেকুয়ায় পৃথক ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছিল।
এছাড়া বৃষ্টির পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গাসহ দুই শিশুরও মৃত্যু হয়। প্রতিবার বর্ষা মৌসুমে উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।