ফারুক হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়ি জেলাধীন মাটিরাঙ্গা পৌরসভার একটি মাদরাসা শিক্ষার্থীকে বিরানি খাইয়ে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার দিবাগত রাত মাটিরাঙ্গা পৌরসভাধীন ১০নং ইসলামপুর দারুল উলুম মাদরাসার সহকারী পরিচালক মাওলানা আব্দুল কাদের গাজী'র বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে।
অভিযোগকারী হেফজখানার শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আছর ওয়াক্তের নামাজ পরতে মসজিদে গেলে ঐ শিক্ষক তাকে রাতে মাদরাসায় থাকার জন্য বলেন, আসতে অনীহা প্রকাশ করলে রাতে বিরিয়ানি খাওয়াবে বললে আসতে রাজি হয়। পরে রাতে বিরিয়ানি খাওয়া শেষ হলে বোডিং রুমে নিয়ে যায় থাকার জন্য, বিছানায় শুয়ার পর একাধিকবার পেন খুলে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করে, এতে রাজি না হয়ে ওয়াশরুমে যাবে বলে বাড়িতে এসে তার পরিবারের লোকজনকে বললে পরে তাঁরা সমাজ এবং মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সকলকে জানান, এবং তাঁরা আশ্বস্ত করেন সকালে বিচার করবে কিন্তু সকালে শুনাগেছে ঐ হুজুর পালিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীর মা জানান, তাঁর ছেলে মাজহারুল ইসলাম এর সাথে ১০নং ইসলামপুর দারুল উলূম মাদরাসার সহকারী পরিচালক আব্দুল কাদের গাজী খারাপ কাজ করতে চেয়েছে। এই মাদরাসায় এর আগেও এ ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে, কিন্তু কোন বিচার হয়নি বরং ভয়ভীতি দেখিয়ে ধামাচাপা দিয়েছে ঐ মাদরাসা'র পরিচালক আক্তারুজ্জামান ফারুকী।
এ ধরনের ঘটনা যেনো আর পূনরাবীত্তি না ঘটে সে জন্য প্রশাসনের নিকট দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী, মাওলানা আক্তারুজ্জামান ফারুকী পরিচালিত আরো কয়েকটি মাদরাসাতেও এ ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে।
এ ধরনের ঘটনা কেনো তাঁর প্রতিষ্ঠানেই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, সে ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আক্তারুজ্জামান ফারুকী সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তাঁরা।
মাদরাসা'র পরিচালক মাওলানা আক্তারুজ্জামান ফারুকী জানান ঘটনার পর তিনিও লোকমুখে শুনেছেন। পরে বাদ জুম্মা সমাজ ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটি বসলে ঘটনার সত্যতা মিলে, তবে ঐ শিক্ষক পলাতক থাকায় তাকে চার দিনের মধ্যে হাজির করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সিধান্ত হয় বৈঠকে।
ঘটনার সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহেদ উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।