এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ; মো. কামরুজ্জামান (৩৫), মো. আমজাদ হোসেন (৩০) ও মো. আফজাল হোসেন (৩৩)। তারা সবাই রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে পূবাইলের মেঘডুবি এলাকায় বসবাস করেন।
পিবিআই জানায়, নিহত শেফালি বেগম মেঘডুবি এলাকায় নিজ বাসায় চা ও পান দোকান পরিচালনার পাশাপাশি তিনটি কক্ষ ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় এক বছর আগে তার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি একাই ওই বাসায় বসবাস করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে নিহতের মেয়ে ময়না আক্তার স্মৃতি তার মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আত্মীয় স্বজনরা বাসার গেট বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ঘরের বিছানায় কম্বলের নিচে শেফালি বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পূবাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে পূবাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে গিয়ে, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৮ মে রাতে রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানান, তারা একটি পলিমার কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং নিহতের দোকান থেকে বাকিতে মালামাল নিতেন। পাওনা টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে শেফালি বেগমের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পাশাপাশি নিহতের কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার রয়েছে, এমন ধারণা থেকে তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন আসামিরা কৌশলে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভুক্তভোগীকে অচেতন করার চেষ্টা করে। পরে বাঁশের লাঠি ও ধারালো দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘর থেকে নগদ টাকা ও কিছু গয়না নিয়ে পালিয়ে যান তারা। পরে গয়না বিক্রি করতে গিয়ে জানতে পারেন সেগুলো আসল স্বর্ণ নয়, সিটিগোল্ড।
পিবিআই আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারাল দা ও একটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার কামরুজ্জামান ও আমজাদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর আসামি আফজালকে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, স্থানীয় সোর্স এবং পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
