স্টাফ রিপোর্টার ;চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তার ছেলের শ্বশুরের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার (৯ মে) স্থানীয় একটি বিল থেকে লাকি আকতার (৩৮) নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) বাড়ির পাশের বিল থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে লাকি আকতারকে একা পেয়ে তার ছেলের শ্বশুর মোহাম্মদ সাবা ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ বিলে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাড়ির সর্দার মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মোহাম্মদ সাবা আমাদের কাছে স্বীকার করেছে যে, সে নিজেই লাকি আকতারকে ধর্ষণ করার পর গলা টিপে হত্যা করেছে। এমন জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’
এদিকে মেয়ের এমন মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন লাকি আকতারের বাবা আবুল বশর। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে পশুর মতো ধর্ষণ করে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। খুনি মোহাম্মদ সাবার যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।’
নিহতের ননদ আরাফা খাতুন বলেন, ‘সাবা মাঝে মধ্যে লাকি আকতারের বাড়িতে এসে বিরক্ত করত। তাকে না আসার জন্য অনেকবার বলা হয়েছিল। সুযোগ পেয়ে লাকি আকতারকে সে হত্যা করেছে।’
ফটিকছড়ি থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সাবাকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সর্দারের কাছে দেওয়া কথিত স্বীকারোক্তি ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’