চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহীদ নগর ও আশপাশের এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া এক যুবকের খণ্ডিত মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার মূল অভিযুক্ত হিসেবে সুফিয়া আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সংবাদ সম্মেলন করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিস্তারিত জানায় পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া সুফিয়া আক্তারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির নাম মো. আনিছ (৩৮)।
তিনি রাউজান উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চিকদাইর এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম জানান, গত ২০ জানুয়ারি রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহীদ নগরের চারতলার মোড় এলাকায় একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মানুষের দুইটি কাটা হাত উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তের ধারাবাহিকতায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহত আনিছ ২০ জানুয়ারি থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বলে তার পরিবার পুলিশকে জানায়।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে তৎপরতা চালায়। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২২ জানুয়ারি ভোরে শহীদ নগর এলাকা থেকে সুফিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের শরীরের বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সুফিয়া আক্তার জানান, নিহত আনিছের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশ জানায়, ২০ জানুয়ারি বিকেলে পাঠানপাড়ার একটি বাসায় ডেকে এনে আনিছকে পাটার শিল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ গোপন করতে মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন জানিয়েছে পুলিশ।

