
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং দলীয় পর্যায়েও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) নগরের কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী । এর আগে বুধবার (১৭ জুন) তিনি চকবাজার থানায় জিডি করেন।
জিডিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন এবং জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া আফরিনকে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় নগরের হোটেল দ্য পেনিনসুলায় এনসিপির কমিটি গঠনসংক্রান্ত আলোচনার কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ও আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়। একপর্যায়ে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, সাদিয়া আফরিনের আমন্ত্রণে তিনি হোটেলের ১৫ তলার রুফটপ বারে যান। সেখানে এস এম সুজা উদ্দীনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তাকে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রিংকস গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরে সাদিয়া আফরিন সেখান থেকে চলে গেলে এস এম সুজা উদ্দীন তাকে নিজের পাশে বসার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। তার আচরণ, অঙ্গভঙ্গি ও দৃষ্টিভঙ্গি আপত্তিকর ও যৌন হয়রানিমূলক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ‘ডিল অর ডেথ’ বলে হুমকি দেওয়া হয় এবং রাজনৈতিক সুবিধা, পদ-পদবি ও আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।
পরে তিনি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে থানায় জিডি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এস এম সুজা উদ্দীন ও সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এনসিপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দলীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে হোটেল দ্য পেনিনসুলার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করতে হোটেলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ তদন্তে সহযোগিতা করছে।