স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ১০ হাজার ১০০ ইয়াবাসহ মাদক চক্রের ৫ সদস্য আটক হয়েছে। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে ধারণা করছে পুলিশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
এর আগে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দপুর এলাকার হাউজিং এস্টেটের উষা ভবন ও এর আশপাশে এ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ডিবির (ভাঙ্গা জোন) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পি. এম. মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। অভিযানে উক্ত ভবনের সামনে ও ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন : আশিকুর রহমান রাহাত (২৫), সুমন মৃধা (৩২), মিরাজুল ইসলাম (২৯), রুমান মোল্লা (২৯) ও মোহাম্মদ সোলায়মান মৃধা (২৬)। তারা সবাই ফরিদপুর সদর কোতয়ালী থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশিকুর রহমান রাহাতের কাছ থেকে ২০টি প্যাকেটে মোট ৪ হাজার পিস ইয়াবা, সুমন মৃধার কাছ থেকে ১৪টি প্যাকেটে ২ হাজার ৮০০ পিস এবং খোলা অবস্থায় আরও ১০০ পিসসহ মোট ২ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
এছাড়া মিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ১৬টি প্যাকেটে ৩ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। সবমিলিয়ে ১০ হাজার ১০০ পিস জব্দ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ভাঙ্গা জোন) পি. এম. মামুনুর রশিদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মাদকসহ এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামছুল আজম বলেন, ফরিদপুর জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। সাধারণ জনগণকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

