আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে হামলায় নীলুফার ইয়াসমিন (৪৮) নামে এক বাংলাদেশি নারী নিহত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে ডক্টর মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ডের একটি গ্যাস স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ অল্প সময়ের মধ্যেই রোলবার্ট জোয়াচিন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার শুরু গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ)। গ্যাস স্টেশনের দোকানে থাকা এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে ব্যর্থ হন জোয়াচিন। পরে তিনি ক্যাশিয়ার নীলুফার ইয়াসমিনের কাছে টাকা দাবি করেন।
নীলুফা জানান, এটিএম মেশিন তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জোয়াচিন সেদিন চলে গেলেও বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) ভোরে দোকানে এসে তাণ্ডব শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে দোকানের সামনে রাখা নীলুফারের ব্যক্তিগত গাড়ির উইন্ডশিল্ড হাতুড়ি দিয়ে ভাঙতে থাকেন তিনি। কারণ জানতে নীলুফার দোকান থেকে বেরিয়ে এলে জোয়াচিন ‘গিভ মি মাই মানি’ বলে চিৎকার করে তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে প্রচণ্ড আঘাত করেন।
হামলার পর ফোর্ট মায়ার্স ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত নীলুফারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। সেখানে সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযুক্ত জোয়াচিনকে পরে ম্যাঙ্গো ও রেলি স্ট্রিট এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের সময় নিরাপত্তার কারণে নিকটবর্তী তিনটি স্কুল—সাকসেস একাডেমি, ইয়াং প্যারেন্টস এডুকেশন প্রোগ্রাম ও জেমস স্টিফেনস এলিমেন্টারিতে সাময়িক লকডাউন জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি লি কাউন্টি জেলে আটক আছেন।
শুক্রবার (৩ মার্চ) আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন।
নিহত নীলুফার ইয়াসমিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নে। তিন মাস আগে তিনি গ্যাস স্টেশনের কনভিনিয়েন্স স্টোরটিতে ক্যাশিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ১৬ ও ২০ বছর বয়সী দুই কন্যাসন্তানের মা ছিলেন।

