ফারুক হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক (খাগড়াছড়ি) : খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক মাটিরাঙ্গা বাজারে পুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধ ভাবে বসেছে ভাসমান ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান।
এছাড়াও বাজার এলাকায় সড়ক দখল, নিজেদের ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে বাসের যাত্রী উঠা নামা, যত্রতত্র সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা এবং মোটরসাইকেল পার্কিং।
জনজীবনে পথচলাকে আরো দুর্বিষহ করে তুলেছে। ট্রাফিক অব্যবস্থাপনায় প্রতিদিনের সৃষ্ট তীব্র যানজট জনদুর্ভোগকে যেন আরো একদাপ এগিয়ে নিয়েছে। সময় যত গড়াচ্ছে জনদুর্ভোগের মাত্রা তীব্র থেকে আরো তীব্র হচ্ছে।
দেশের ভৌগলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, আয়তন ও যোগাযোগের দিক থেকে খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলার মধ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা সাজেক ভ্যালী, আলুটিলা প্রাকৃতিকগুহা ও রিছাং ঝর্ণা দেখতে ঢাকা চট্টগ্রাম সহ দেশ বিদেশে হাজার হাজার পর্যটক এ মাটিরাঙ্গা দিয়ে যেতে চরম যানজটের সম্মুখীন হতে হয়। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ন আঞ্চলিক মহাসড়কে সৃষ্ট যানজট নিরসনে প্রশাসন অনেকটা নিষ্ক্রিয়।
অবৈধ ভাবে সড়ক ও পুটপাত দখল করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভাসমান ব্যাবসায়ী বলেন,তাদের জীবিকা নির্বাবে বিকল্প ব্যাবস্থা নাই।
পুটপাতে ব্যাবসা করে তারা সংসার চালান। মাটিরাঙ্গা বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটি থাকলেও ভাসমান দোকানদার ও যানজট নিরসনে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। অদৃশ্য কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছেন তারা।
সংশ্লিষ্ঠ দায়িত্বশীলরা তাদের স্থায়ী ভাবে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাবস্থা করে দিলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসে ব্যাবসা করতেন না।
সড়ক ও ফুটপাতে ভাসমান থেকে সড়িয়ে স্থায়ীভাবে বসার ব্যাবস্থা করে দিতে সংশ্লিষ্ট্যদের প্রতি দৃষ্টি আকষর্ণ করেন তারা।
স্থানীয় পদচারি আবুল হাশেম বলেন, মাটিরাঙ্গা বাজারে ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান বসার কারণে মূল সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে হয়। এতে যে কোন সময় অনাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে।
এছাড়াও মূল সড়ক দখল করে অপরিকল্পিত ভাবে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা পার্কিং ও ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিন সৃষ্ট যানজটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে জনজীবন।
ট্রাফিক পুলিশ সল্পতার কথা স্বীকার করে মাটিরাঙ্গা থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন জানান, ট্রাফিক বিভাগ আলাদা।
সেখানে থানা পুলিশের কর্তৃত্ব নাই। তবুও ঈদ পরবর্তী মাটিরাঙ্গা বাজারের যানজট নিরসনে ট্রাফিকের পাশাপাশি পুলিশও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আগামীতে আরও ভালো কিছু হবে বলে আশা করেন তিনি। অপর দিকে ট্রাফিক সার্জেন্ট ছুটিতে থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মাটিরাঙ্গায় সৃষ্ট জন দুর্ভোগের বিষয় অবগত আছেন উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রতীতি পিয়া জানান, যথাযথ তদন্ত/যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পরিবর্তিত পরিস্থিতি দেখা যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি ।