স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট ও বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে দুই জেলায় পৃথক সময়ে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে ওসমানীনগর থানার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাত যাত্রীর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালান। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে গুরুতর আহত তিন বছর বয়সী এক শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।
ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। নিহতদের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে বগুড়ার এরুলিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে অন্তত সাতজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে সড়কের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি রাস্তার পাশে কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বগুড়া সদর থানার পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম দুর্ঘটনা ও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।