এসময় নুরুলের কাছ থেকে দুইটি ওয়াকিটকি, দুই সেট ওয়াকিটকির চার্জার, একটি ভুয়া পাসপোর্ট, সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়যুক্ত একটি ভুয়া আইডি কার্ড, র্যাবের কর্নেল পদমর্যাদার ডেপুটি ডিরেক্টর পরিচয়যুক্ত একটি ভুয়া আইডি কার্ড, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের ১০টি পোশাক, সেনাবাহিনীর চিকিৎসা বইসহ বিভিন্ন ফর্ম ও প্যাড, সেনাবাহিনীর মেজর ও পুলিশ সুপার পরিচয়যুক্ত পোশাক পরিহিত পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং চাকরির আবেদন ফরম উদ্ধার করা হয়।
ডিবি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত নুরুল চৌধুরী তার সহযোগীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে ‘মেজর আল মামুন, ‘কর্নেল নাজিম’ ও ‘মেজর তানভীর’ পরিচয় দিয়ে সেনাবাহিনীতে সৈনিক, রাঁধুনি, পিয়ন ও বাবুর্চি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন।
চাকরিপ্রত্যাশী বেকার যুবক, রিকশাচালক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষ ছিল এই প্রতারক চক্রের অন্যতম লক্ষ্য। প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফরম, পরিচয়পত্র, সেনাবাহিনীর পোশাক ও বিভিন্ন বাহিনীর পোশাক পরিহিত ছবি ব্যবহার করত। এছাড়া কখনো এসবি-ডিবির সদস্য এবং কখনো ‘পুলিশ সুপার তারিকুর রহমান’পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করার তথ্যও পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে নুরুলের বিরুদ্ধে। শাহআলী থানায় রয়েছে প্রতারণার মামলা। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে গ্রেফতারকৃতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, উদ্ধারকৃত ভুয়া পরিচয়পত্র, নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র, পোশাক ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে এ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
