
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ সি’র এই ম্যাচ দিয়েই দুই দলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হচ্ছে। ম্যাচটিকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা।
এই ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ ব্রাজিলের ডাগআউটে কার্লো আনচেলত্তির উপস্থিতি।
তিনি ১৯৬৫ সালের পর সেলেসাওদের দায়িত্ব নেওয়া প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে দল পরিচালনা করছেন।
ম্যাচ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল শিবির। ডান পায়ের ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় এই ম্যাচে মাঠে থাকছেন না দলের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা নেইমার জুনিয়র।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন, নেইমার এই ম্যাচে খেলতে না পারলেও আগামী সপ্তাহ থেকে তিনি পুরোদমে অনুশীলনে ফিরবেন।
নেইমার না থাকলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া এবং তরুণ এন্দ্রিককে নিয়ে গড়া ব্রাজিলের আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট ও বর্তমান আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা দলটি আত্মবিশ্বাসীভাবেই বিশ্বকাপে প্রবেশ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচ কেবল দুই দলের গ্রুপ পর্বের সূচনা নয়, বরং শক্তি ও সামর্থ্যের বাস্তব পরীক্ষা।
ব্রাজিলের বর্তমান জাতীয় দলের দুই খেলোয়াড়ের জন্মই হয়নি, যখন ২০০২ সালে দেশটি সর্বশেষ ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছিল। সেই সময়ের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৪ বছর—একটি পুরো প্রজন্ম বড় হয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফি না দেখে।
এই দীর্ঘ অপেক্ষা শুধু পরিসংখ্যান নয়, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের পরিচয় ও দর্শনেও বড় পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। একসময় যেখানে ব্রাজিল ছিল ‘সাম্বা ফুটবল’-এর প্রতীক, সেখানে এখন ফলাফলই হয়ে উঠেছে প্রধান লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিল এখনো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও আগের মতো নান্দনিক ফুটবলের একচ্ছত্র আধিপত্য আর নেই। তাই আসন্ন বিশ্বকাপে তাদের ওপর চাপও বহুগুণ বেশি।
অভিজ্ঞ ইতালীয় কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুন এক ব্রাজিল গড়ার চেষ্টা চলছে। তবে তার প্রস্তুতি সহজ হয়নি। ইনজুরি ও স্কোয়াড ভারসাম্য নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু থেকেই দলকে চাপে ফেলেছে।
প্রস্তুতি ম্যাচে চার ফরোয়ার্ডের আক্রমণাত্মক ফরমেশন ব্যবহার করে মাঝমাঠ দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়টি বড় উদ্বেগ তৈরি করে। পরবর্তীতে তিনজন মিডফিল্ডার ব্যবহার করলে দলের ভারসাম্য কিছুটা ফিরে আসে।
বর্তমান পরিকল্পনায় গোলপোস্টে অ্যালিসন, ডিফেন্সে মারকিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, মাঝমাঠে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারায়েস এবং আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া—এই মূল কাঠামোতে দল সাজানো হচ্ছে।
তবে ফুলব্যাক ও স্ট্রাইকার পজিশন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তরুণ এন্দ্রিক ও ম্যাথিউস কুনহার মতো খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এই প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেন।
অন্যদিকে নেইমারকে ঘিরে আলোচনাও থামছে না। ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও তাকে স্কোয়াডে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কোচ মনে করছেন, অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিল এখন আর আগের মতো নিখুঁত ফুটবলের দল নয়, বরং পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি দল। তাদের সামনে লক্ষ্য স্পষ্ট—২৪ বছরের শূন্যতা কাটিয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়।
২০২৬ বিশ্বকাপ তাই ব্রাজিলের জন্য শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং নিজেদের হারানো পরিচয় পুনরুদ্ধারের এক বড় পরীক্ষা।
