স্টাফ রিপোর্টার : শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় এক
পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও এক নারীকে আটক করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ ইউএনও কার্যালয়ের সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক জাকির হোসেন খাঁনের কক্ষের স্টিলের আলমারিতে বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের জন্য চার লাখ ছয় হাজার টাকা রাখা ছিল।
এছাড়াও হাটবাজারের খাস আদায়ের ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার দুটি পে-অর্ডার সেখানে সংরক্ষিত ছিল।
গত ২৪ মার্চ অজ্ঞাতসারে এসব টাকা ও পে-অর্ডার চুরি হয়ে যায়, যা পরে ধরা পড়ে।
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী তুষার দাস (৩০) সন্দেহজনকভাবে ওই কক্ষে যাতায়াত করছেন।
এরপর তাকে নজরদারিতে রেখে অভিযান চালিয়ে রোববার (২৯ মার্চ) রাতের দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ধানুকা এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুষার দাস চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানাপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে সুবর্ণা হিরা নামে এক নারীর কাছে গচ্ছিত রাখা দুই লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে চুরি হওয়া বাকি টাকা ও পে-অর্ডার উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, চুরির ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আংশিক টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য জড়িতদের শনাক্ত ও বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দফতরে এ ধরনের চুরির ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিও উঠেছে।

