
বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরখীল গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর রহমান ওই এলাকার মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া থানায় মাদকসহ বিভিন্ন আইনে মোট ৯টি মামলা রয়েছে। তিনি একসময় লোহাগাড়া উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। সেই সূত্রে স্থানীয়দের কাছে ‘মাস্টার’ নামে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জহির আমিনের নেতৃত্বে একটি দল ফকিরখীল গ্রামে অভিযান চালায়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে পুলিশ তাকে সেখান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ মে ফকিরখীল গ্রামের একটি দোকানের সামনে স্থানীয় স্বপন দাশ (৭০)-এর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর রহমান তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তার বাম হাতের একটি আঙুলের নখ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে তিনি এক নারীকে নির্যাতন করে তার একটি চোখ নষ্ট করে দেন।
এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারকর্মীকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মতবিরোধ হলেই মারধর ও ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফকিরখীল এলাকায় টানানো একটি ব্যানারে তিনি নিজেকে পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যানার নিয়ে কেউ মন্তব্য করলেও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে আঙুলের নখ বিচ্ছিন্ন করা ও এক নারীর চোখ তুলে ফেলার অভিযোগসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুইটি মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এছাড়া এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে। তাকে বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
