স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে অভিযান চালিয়ে ১২ হাজার ৭০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ করেছে নৌপুলিশ।
এ সময় তেল পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় একটি অয়েল ট্যাংকারের সুপারভাইজার, মাস্টার ও স্টাফসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে তেল চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পাম্প মোটরও।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে কর্ণফুলী নদীর চট্টগ্রাম বন্দরের ৬ নম্বর ভেসেল পয়েন্ট জেটি এলাকায় সদরঘাট নৌ থানার পুলিশ এ অভিযান চালায়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- আরিফুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম (ইশাদ), মো. আবদুল হালিম, নুরুল মোস্তফা, জালাল আহমদ ও নুরুল আমিন।
নৌপুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ‘ওটি ইশরাত’ (এম-২৫৩৭৩) নামের একটি অয়েল ট্যাংকার তল্লাশি করে ১২ হাজার ৭০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা ডিজেলের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা।
পুলিশের জানায়, ডিজেল পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ট্যাংকারে থাকা ছয়জনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে তেল চুরির কাজে ব্যবহৃত দেড় ইঞ্চি পাইপযুক্ত একটি পাম্প মোটর জব্দ করা হয়েছে।
নৌপুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদী ও আশপাশের ঘাট এলাকায় চোরাই ডিজেল কেনাবেচা করে আসছিলেন। ঘটনার রাতে বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা ডিজেল বিক্রির উদ্দেশ্যে বাংলা বাজার ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পুলিশ আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
অন্যদিকে মো. আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানায় ডাকাতি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। জব্দ করা ডিজেল, ট্যাংকার ও অন্যান্য মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা।
এ ঘটনায় সদরঘাট নৌ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর থানায় একটি মামলা করেছেন।

