
নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুতেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়তে পারত ব্রাজিল। ম্যাচ শুরুর দুই মিনিট পরই জালের দেখা পেয়েছিল আর্লিং হলান্ডের দল। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। বেঁচে যায় ব্রাজিল। এরপর দশ মিনিটের খেলা শেষ না হতেই পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা।
নরওয়ে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেললেও ম্যাচের আট মিনিটের মাথায় দারুণ এক আক্রমণ শাণায় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। সেই আক্রমণ থামাতে নিজেদের বক্সে মাথেউস কুনিয়াকে ফাউল করে বসেন নরওয়ে ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আয়ের।
রেফারি শুরুতে পেনাল্টি না দিলেও ভিএআর রিভিউয়ের পর পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। এদিকে স্পটকিক নিতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বদলে এগিয়ে আসেন ব্রুনো গিমারেস। দারুণ এক সুযোগ থেকে দলকে এগিয়ে দিতে ব্যর্থ হন এই সেলেসাও ফুটবলার।
তাঁর শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। লিড পেতে ব্যর্থ হয় সেলেসাওরা। এদিকে গিমারেস দলকে এগিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ম্যাচের ২৩ মিনিটে গোলের দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন কুনিয়া। ওয়ারন ভার্সেস ওয়ান লড়াইয়ে বল নিয়ে ডি বক্সে প্রায় ঢুকেই পড়েছিলেন। কিন্তু নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি। ফলে হাইড্রেশন ব্রেকের আগ পর্যন্ত গোল পায়নি ব্রাজিল।
এদিকে হাইড্রেশন ব্রেকের পর শুরুতেই গোলের আরেকটি সুযোগ তৈরি করেছিল ব্রাজিল। গোলপোস্টের কাছে থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি শট নিয়েছিলেন। কিন্তু নরওয়ে গোলরক্ষকের প্রচেষ্টায় এবারও নিরাশ হয় ব্রাজিল।
এদিকে ম্যাচের ৩৭ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল নরওয়েও। তবে হলান্ড সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। এর দুই মিনিট পরই দারুণ এক শট নিয়েছিলেন ভিনি জুনিয়র। তবে নরওয়ে গোলরক্ষক এবারও দারুণ এক সেভে নিরাশ করেন তাকে।
এদিকে প্রথমার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিটের খেলা শেষের পর যোগ হয় ৬ মিনিটের। এই সময়ের দুই মিনিট যেতেই গোলের দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। প্রতি আক্রমণে বল পেয়েছিলেন হ্লান্ড। তবে শট নিতে পারেননি তিনি। হলান্ড ব্যর্থ হলেও বল পেয়ে যান মার্তীন ওডেগার্ড। তবে নরওয়ে অধিনায়কের শট ঠেকিয়ে দলকে বাচান অ্যালিসন বেকার।
বিরতির পর নরওয়ে মাঠে নামে দুটি পরিবর্তন নিয়ে। আলেক্সান্দার সরলথ ও আন্তোনিও নুসার জায়গায় মাঠে নামেন অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। এই শেলদেরুপের পাস থেকেই ম্যাচে প্রথম গোলের দেখা পায় নরওয়ে।
এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কুনিয়ার বদলে মাঠে নামেন এন্দ্রিক। মাঠে নেমেই ভিনির পাস থেকে গোল করার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। এখানেও দারুণ অবদান নিলান্ডের। এন্দ্রিকের সেই মিসের পরই দারুণ এক শট নিয়েছিলেন রায়ান। তবে এবারও ব্রাজিলকে হতাশ করেন নিলান্ড। শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলকে বারবার হতাশ করছেন নরওয়েজিয়ান এই গোলরক্ষক।
এদিকে বদলি হয়ে মাঠে নেমে নরওয়ের আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকেন আন্দ্রে শেলদেরুপ। তাঁর সাজিয়ে দেওয়া আক্রমণের ধারাবাহিকতায় প্রথম গোলের দেখা পায় নরওয়ে। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে শেলদেরুপের দুর্দান্ত এক ক্রস থেকে হেডে গোল দিয়ে দলকে এগিয়ে দেন হলান্ড।
এদিকে শেষদিকে গোল হজম করে ব্রাজিল তখন বাদ পড়ার শঙ্কায়। ম্যাচে ফিরতে মরিয়ে হয়েই লড়াই শুরু করে সেলেসাওরা। নেইমার-ভিনিরা আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকেন। দারুণ কিছু সুযোগও তৈরি করেছিলেন। তবে নরওয়ে গোলরক্ষক নিলান্ডের দক্ষতায় ভেস্তে যায় সব। এরই মধ্যে দ্বিতীয় গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ব্রাজিল। ৯০ মিনিটে শেলদেরুপের অ্যাসিস্ট থেকেই দ্বিতীয় গোল করেন হলান্ড।
দুই গোলে পিছয়ে পড়ার পর আর কিছুই করতে পারেননি নেইমার-ভিনিরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময় আসে সাত মিনিট। এই সাত মিনিটেই বাড়ে নাটকীয়তা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। আর স্পটকিক থেকে গোল করেন নেইমার। স্বান্তনার সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল।
