স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বুধবার ও বৃহস্পতিবারের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত গভীর রাত থেকে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া পয়েন্ট দিয়ে সাঙ্গু নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে, বুধবারও তা অব্যাহত ছিল। এতে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও মৎস্য খামার পানিতে তলিয়ে যায়। খামার ডুবে যাওয়ায় অনেক মাছচাষি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া ছাড়াও বিশ্বেশ্বর হাট এলাকায় সাঙ্গু নদীর পানি উপচে পড়ছে। একই সঙ্গে রামদা, কাটাখালীকুল, মাহালিয়া ও হাঙ্গর খালের পানি দুই তীর উপচে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বাজালিয়া, ছদাহা, কেঁওচিয়া, ধর্মপুর ও কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
অন্যদিকে বুড়ির দোকান ব্রিজ ও দস্তিদারহাট ব্রিজ এলাকায় কেরানীহাট–বান্দরবান মহাসড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বাজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বড়দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইফুদ্দিন বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এলাকার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তাদের বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে। পরিবার নিয়ে তিনি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নিয়েছেন। একমাত্র চলাচলের সড়কে কোমরসমান পানি থাকায় স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় মাছচাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, রাতে পুকুরের চারপাশ জাল দিয়ে ঘিরেও রক্ষা হয়নি। কয়েক লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে উপজেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ঢেমশা, নলুয়া, আমিলাইষ ও চরতি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ সড়ক। ঢেমশা ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়া, মরিচ্চাপাড়া, শাহ মোহছেন ফকিরপাড়া ও হিন্দুপাড়ার অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে নৌকায় চলাচল করছেন বাসিন্দারা।
ঢেমশার বড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা বিজয় বড়ুয়া এবং শাহ মোহছেন ফকিরপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, তারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
চট্টগ্রাম পানি বিজ্ঞান উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হাসান বলেন, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী পয়েন্টে বিপৎসীমা ৬ দশমিক ৫৫ মিটার। বুধবার দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫ দশমিক ৯২ মিটার।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড-১–এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মানুষ বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন, সেসব এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দ্রুত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যা ও সম্ভাব্য পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতির কারণে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

