স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা–বাবাকে কাঁচি দিয়ে হত্যার আলোচিত ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক কলহ ও দীর্ঘদিনের মানসিক ক্ষোভ কাজ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর আটক নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে রিমন দাশ গুপ্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত কাঁচিটি উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) আনোয়ারা থানা আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবা–মায়ের সঙ্গে রিমন দাশ গুপ্তের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি ঘরে থাকা একটি কাঁচি দিয়ে প্রথমে মা কল্পনা দাশ গুপ্তকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বাবা স্বপন দাশ গুপ্তকেও একই কাঁচি দিয়ে গলা ও পেটে আঘাত করেন।
পুলিশ আরো জানায়, ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশ গুপ্ত মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপন দাশ গুপ্তকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন অভিযুক্ত রিমন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত কাঁচিটিও উদ্ধার করা হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, নিহত স্বপন দাশ গুপ্তের ভাই তপন দাশ গুপ্ত বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও তার স্ত্রী কল্পনা দাশ গুপ্ত (৫৫)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত কল্পনা দাশ গুপ্তের ছোট জা তিথি দাশ বলেন, রিমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তাকে একাধিকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। ঘটনার দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা বাইরে থেকে সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িতে ফিরেন। এর কিছুক্ষণ পরই রিমন ছুরি জাতীয় একটি ধারালো বস্তু দিয়ে তার মাকে আঘাত করতে শুরু করে।’
‘মাকে বাঁচাতে স্বপন দাশ এগিয়ে গেলে রিমন তাকেও আঘাত করে। এ সময় আমরা দ্রুত আশপাশের লোকজনকে ডাকতে ছুটে যাই। পরে ফিরে এসে দেখি, কল্পনা দাশ ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আর গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপন দাশকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।’

