স্টাফ রিপোর্টার : সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজের ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল নয়টার দিকে ভাটিয়ারী স্টেশন রোডসংলগ্ন সাগর উপকূলে এ ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েকজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়ায়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, জাহাজের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঠিক কোন গ্যাসের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপর কয়েকজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, দুপুর ১২টার পর ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডের ঘটনায় আহত ছয়জনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাদের মধ্যে পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া যায়। তারা হলেন সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০), নাসির উদ্দিন (৩৮) এবং মোহাম্মদ হাবিব। তারা সবাই ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।
ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, শুক্রবার ইয়ার্ডের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সকালে স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের একটি ট্যাংকে লিকেজ দেখা দেয়। বিষয়টি দেখতে স্থানীয় ও বহিরাগত কয়েকজন সেখানে গেলে তাঁরা গ্যাসে আক্রান্ত হন। এতে কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয় জেলেরা বলেন, ইয়ার্ড থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধ এতটাই তীব্র ছিল যে সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা ইয়ার্ডের পাশের খালে ঢুকতে পারেননি। পরে তারা প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা ভেড়ান।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, হঠাৎ ইয়ার্ডের ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শুনতে পান তারা। পরে সেখানে গিয়ে কয়েকজন অসুস্থ ব্যক্তিকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিতে দেখেন। জাহাজের ভেতরে কয়েকজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ইয়ার্ডে ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় শতাধিক মানুষ ইয়ার্ডে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইয়ার্ড কর্মকর্তারা।
এ সময় বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমনের ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গ্যাস নির্গমনের কারণ এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
তবে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে অন্যদের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। তবে কীভাবে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। তার দাবি, আহত ১০ শ্রমিককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁদের মধ্যে তিনজন মারা যান।

