ওসি মহসীনকে খুলনা রেঞ্জে বদলি

0

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে (সিএমপি) জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীনকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (এএন্ডও) ড. মোহাম্মদ মইনুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়।আদেশে আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য সিএমপি থেকে ছাড়পত্র নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ওসি মোহাম্মদ মহসীনের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়। দুইবার ‘পিপিএম’ ও একবার ‘আইজিপি ব্যাজ’ পদক পাওয়া মহসীন ২০০১ সালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে পুলিশে যোগ দেন। এরপর ২০০২ সালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে তাকে পদায়ন করা হয়। ২০০৩ সালে এসআই হিসেবে যোগ দেন নড়াইল সদর থানায়। ২০০৫ সালে উপ-পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন সিএমপির খুলশী থানায়।

এরপর গোয়েন্দা বিভাগ ঘুরে সেখান থেকে কোতোয়ালী থানায় কিছুদিন কাজ করার পর যোগ দেন ফের গোয়েন্দা বিভাগে। সেখান থেকে বোমা নিস্ক্রিয়করণ প্রশিক্ষণ নিতে সিএমপির পক্ষ থেকে তাকে পাঠানো হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।

দেড় বছর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরে তিনি উপ-পরিদর্শক থেকে পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পান ২০১৩ সালে। ওই বছরের ৫ আগস্ট ওসি হিসেবে যোগ দেন সিএমপির বাকলিয়া থানায়। পরে বায়েজিদ বোস্তামী ও গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানায় ওসি পদে যোগ দেন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মহসীন। তার সবশেষ কর্মস্থল ছিল ডবলমুরিং থানা।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন অ্যাওয়ার্ড ওসি মোহাম্মদ মহসীন পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখে আসছেন। ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড প্রদান শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সেবারই একজন পুরুষ কর্মকর্তা এ পদকে ভূষিত হন।

কোতোয়ালীর ওসি থাকার সময় পুলিশের ‘হ্যালো ওসি’ কার্যক্রম প্রথম শুরু করেছিলেন তিনি। পরে এ ধারণাটি সিএমপির অন্য থানাসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। খুচরা মাদক বিক্রেতা, অপরাধীদের আলোর পথে নিয়ে যেতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে প্রশংসা কুড়িয়েছেন মহসীন।

করোনা সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তা করা, সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা, চিকিৎসা না পেয়ে থানায় হাজির হওয়া মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, ঘরে থাকা মানুষের কাছে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পৌঁছে দেওয়া, কোয়ারেন্টিন থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, লকডাউন এলাকায় মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা— সব কাজেই তৎপর ছিলেন ওসি মহসীন।

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় প্লাজমা ব্যাংক চালু ও ওষুধ-কারসাজি ঠেকাতে ‘আমার ফার্মেসি’ নামক উদ্যোগ নিয়েও এগিয়ে আসেন মোহাম্মদ মহসীন।

সম্প্রতি নগরের বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী ও প্রহরীদের প্রশিক্ষণ নিয়ে পুলিশের সহযোগী হিসেবে তৈরির উদ্যোগও শুরু করেন ওসি মহসীন; পরে সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে নগরের সব থানায় এ কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে।


Warning: A non-numeric value encountered in /home/presvdfgsbd24/public_html/bangla/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 1009

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here