ফারুক হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক (খাগড়াছড়ি) ; সম্প্রতি টানা ভাড়ী বর্ষণের ফলে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন গোমতী ইউনিয়নের দূর্গম বান্দরছড়া এলাকায় একটি ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এতে স্থানীয়দের চলাচলে তৈরি হয় দুর্ভোগ।

দূর্যোগের কথা ২জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইশতিয়াক আহমেদ।
শনিবার (০৪ জুলাই) ঘটনাস্থল পুন: পরিদর্শন করে ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি চলাচলে স্বাভাবিক করার জন্য তাগিদ দেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর পর এই এলাকায় একটি ব্রিজ হয়েছে। কিন্তু ব্রিজটি দুই পাহাড়ের প্রায় চল্লিশ ফিট নিচু হওয়ায় ভারী বৃষ্টির কারণে দুই পাশের পাহাড়ের সমস্ত পানি রাস্তা দিয়ে যাওয়ায় রাস্তা ভেঙে গেছে। গ্রামবাসীর প্রাণের দাবী রাস্তার সাথে ড্রেন এবং ব্রিজের দুই পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ করে এলাকাবাসীর নিরাপদ যাতায়াত উপযোগী করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তাঁরা।
রবিরন তালুকদার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মতিউর রহমান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু গত কিছুদিন টানা ভাড়ী বৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ের পানি নেমে ব্রিজের সংযোগ রাস্তা কিছুটা ভেঙে গেছে। তাই স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার্থে পুনরায় কাজ করতে নির্দেশ দেন পিআইও। নতুন করে মাটি ভরাট এবং টেকসই করনের কাজ চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতাধীন গ্রামীণ মাটির রাস্তায় কম/বেশী ১৫ মি. দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/ কালভার্ট নির্মাণ (সংশোধিত)শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে মিলন মেম্বার পাড়ায় ১৪ মিটারের একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাস খানিক পর টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এবং পাহাড়ের প্রায় চল্লিশ ফিট নিচু হওয়ায় দুই পাশের বৃষ্টির পানিতে ব্রিজের সংযোগ সড়কগুলো অনেকটা ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের চলাচলে অসুবিধা হয়। যার ফলে স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার্থে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রবিরন তালুকদারকে তাৎক্ষণিক সংযোগ সড়ক পুনঃ নির্মাণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পুনঃ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি খুব শীগ্রই স্থানীয়দের ব্রিজ ব্যবহারের পরিপূর্ণ উপযোগী করে তুলতে পারবো।

