স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি-পশ্চিম) অভিযানে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৮ কেজি হেরোইন ও ১৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণফুলী থানার ক্রসিং এলাকার পেট্রোল পাম্পের সামনে অভিযান চালায় ডিবি। তাদের কাছে তথ্য ছিল, একটি হানিফ পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস কক্সবাজার থেকে মাদকদ্রব্য বহন করে চট্টগ্রামের দিকে আসছে।
অভিযানকারী দল বাসটি দেখতে পেয়ে থামার সংকেত দিলে বাসটি না থামিয়ে শহরের দিকে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করে। পরে আভিযানিক দল বাসটিকে ধাওয়া করে ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন : বাসের সুপারভাইজার মো. আলী হোসাইন (৪২), হেলপার মো. আজিম (৪০) এবং চালক মুহাম্মদ রাশেল (৪৯)। এ ঘটনায় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বাসটি জব্দ করা হয়েছে।
আটকের পর সংকেত অমান্য করে পালানোর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, গাড়িতে অবৈধ মাদকদ্রব্য থাকার কারণে তারা গাড়িটি না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাসটির পেছনের অংশে বডির নিচে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় হলুদ রঙের কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ৮টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
প্রতিটি প্যাকেটে ১ কেজি করে মোট ৮ কেজি হেরোইন ছিল। একইভাবে হলুদ রঙের কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ৭টি প্যাকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ১৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, যার ওজন ১ কেজি ৪০০ গ্রাম।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা ৮ কেজি হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ কোটি টাকা এবং ১৪ হাজার পিস ইয়াবার মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ জানায়, জব্দকৃত হেরোইন ও ইয়াবা কক্সবাজারে অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন ব্যক্তির কাছ থেকে সংগ্রহ করে বাসের বডির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। সেখানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের কাছে এগুলো বিক্রির পরিকল্পনা ছিল বলেও জানায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আটক সুপারভাইজার মো. আলী হোসাইনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।
২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারি ঢাকার হাতিরঝিল থানায় করা মামলার আসামি তিনি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে এসব মাদকদ্রব্যের কেনাবেচার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানাতে পারেনি পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, কে বা কারা এই মাদক সরবরাহ করেছে তা এখনও জানা যায়নি।
এবং ঢাকায় কে বা কারা এই মাদকের ক্রেতা, তাও জানা যায়নি। আসামিরা এসব বিষয়ে স্বীকার করছে না।

