
২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কিউইদের। চতুর্থ ওভারেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। মুস্তাফিজুর রহমান নিজের করা দ্বিতীয় ওভারেই এনে দেন ব্রেক থ্রু।
চতুর্থ ওভারের মুস্তাফিজের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী হয়ে আউট হন কিউই ওপেনার হেনরি নিকোলস। ফেরার আগে তিনি ১০ বলে করেন ৪ রান। হেনরি ফেরার পর ক্রিজে আরেক ওপেনার নিক কেলির সঙ্গী হন উইল ইয়াং। এ দুজন মিলে পাওয়ার প্লের বাকি ওভারগুলো রয়েসয়েই খেলেছেন। টাইগার বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামনে হাত খুলে খেলে ঝুঁকি বাড়াতে চাননি। পাওয়ার প্লে শেষে কিউইদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৩৩ রানে।
ইয়াংকে নিয়ে এরপর বড় জুটিই গড়েছিলেন কেলি। দুজন মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৪৬ রান। কিন্তু এ জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। তরুণ এই বোলারের বলে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী হয়ে সাজঘরে ফিরেন ইয়াং। এরপর দ্রুতই আঘাত হানেন অধিনায়ক মিরাজ। দলীয় ৫৪ রানে ইয়াং ফেরার পর দলীয় ৬১ রানেই ফেরেন কিউই অধিনায়ক ল্যাথাম।
দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। তবে চতুর্থ উইকেটে আবার দলের হাল ধরেন কেলি। এবার তাঁর সঙ্গী ছিলেন মুহাম্মদ আব্বাস।
দুইজন মিলে স্কোরবোর্ডে রান যোগ করে লড়াইয়ের আশা যোগান। এ জুটিতে স্কোরবোর্ডে ৪৭ রান ওঠার পরই আঘাত হানেন জুস্তাফিজ। এবার তাঁর শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ৫৯ রানে সাজঘরে ফিরেন কেলি।
কেলি ফেরার পর শরিফুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন আব্বাস। নাহিদ রানার দুর্দান্ত এক ইয়ার্কারে আউট হন ক্লার্কসন। এরপর মুস্তাফিজ নেন আরও ৩ উইকেট। তবে দ্রুত বেশ কয়েকটি উইকেট হারালেও টাইগার বোলারদের পরীক্ষা নিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট।
শেষদিকে তিনি খেলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। দশম উইকেটে বেন লিস্টারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি স্কোরবোর্ডে রান বাড়ান, পেয়ে যান নিজের ব্যক্তিগত অর্ধশতকের দেখাও।
কিউই এই ব্যাটার দশম উইকেটে লিস্টারের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি। তাঁর এই আক্রমোণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলীয় দুইশ রানের সংগ্রহ পেরিয়ে যায় কিউইরা। তবে শেষ পর্যন্ত আর পারেননি তিনি। মিরাজের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হতে হয় তাঁকে। ফেরার আগে তিনি করেন ৭২ বলে ৭৫ রান। তাঁর এই ইনিংসে নেই একটিও চার, ৭টি ছয় হাঁকিয়েছেন তিনি।
ফক্সক্রফটের ইনিংস থামলে ৫৫ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত হয় টাইগারদের।
স্বাগতিকদের হয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ, ২ টি করে উইকেট পেয়েছেন মিরাজ ও নাহিদ রানা, একটি উইকেট পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল। তবে নাজমুল শান্তর সেঞ্চুরি আর লিটন দাসের ৭৬ রানের ইনিংসের সুবাদে ২৬৫ রানের চ্যালেনিঞ্জিং সংগ্রহ গড়তে পারে বাংলাদেশ।
